তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি

রাজশাহীর তানোর ও নওগাঁর মান্দা উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন ভারশো ইউনিয়নে অবস্থিত আন্দারশুরা পদ্মবিলে প্রকৃতির সঙ্গে পদ্মফুলের মিতালী দর্শনার্থীদের হাতছানি দিচ্ছে। সেখানে গেলে দেখা মিলবে চোঁখ জোড়ানো বাহারি রঙের পদ্ম ফুল সমারোহ।

পদ্মবিল নামে পরিচিত বিলটিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া লাল, গোলাপি ও সাদা পদ্মফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য আকর্ষণ করে দর্শনার্থীদের। আর এই মনোরম সুন্দর্য্য দৃশ্য উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণায় দিন দিন বাড়ছে ভীড়।

বর্ষা মৌসুমে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া পদ্মফুল সৌন্দর্য বাড়ায় নওগাঁর আন্দাশুরা বিলের। পদ্মবিল নামে পরিচিত বিলটি জুড়ে লতা-পাতা, আবার কোথাও কচুরিপানা। এরই মাঝে ভেসে উঁকি দিচ্ছে বাহারি রঙের অগণিত পদ্মফুল।

স্থানীয়রা জানায়, ১৯৯৫ সালের পর থেকে বর্ষাকালে এই বিলে পদ্মফুল ফুটতে শুরু করে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে, লাল, গোলাপী ও সাদা রঙের জলজ ফুলের রানী পদ্মফুল প্রকৃতি প্রেমিদের স্বাগত জানায়। পদ্মফুলের সৌন্দর্যের এই বাহার দেখতে ভিড় জমায় দর্শনার্থীরা। শুধু সৌন্দর্যই নয় বর্যা মৌসুমে বিল পাড়ের কয়েকটি গ্রামের স্বল্প আয়ের পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে এই ফুল বিক্রি করে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজায় পদ্ম ফুলের চাহিদা থাকায় ভোর থেকে দুপুর পযর্ন্ত বিল হতে ফুল সংগ্রহ করে রাজশাহী ও নওগাঁ শহর বাজারে বিক্রি করা হয়ে থাকে। বিল এলাকায় এর মূল্য কম থাকলেও শহরে এক একটি ফুল ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে দৈনিক একজন মানুষ ৫ থেকে ৬’শ টাকা উপার্জন করছেন ফুল বিক্রি করে। তবে লকডাউনের কারনে বর্তমানে ফুল বিক্রি আগের তুলনায় কম। স্থানীয় বাসিন্দা সামিউল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন অনেক মানুষ দল বেঁধে পদ্মফুল দেখার জন্য পদ্ম বিলে আসছেন।

তারা নৌকা ভাড়া করে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। স্থানীয়রাও ভ্রমণ পিপাসুদের সহযোগিতা করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। হিন্দু ধর্মালম্বীরা বিভিন্ন পূজা-পার্বণে পদ্মফুলের ব্যবহার করেন। তাই এলাকার শ্রমজীবী মানুষ ফুল ও ফল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। মান্দার আন্দারশুরা পদ্মবিলে ঘুরতে আসা স্কুল ছাত্রী আনিকা মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন থেকে স্কুল থাকায় কোথাও ঘুরতে যেতে পারি না।

তাই অনেক দিন পর স্কুল ছুটির জন্য বিলে পদ্ম দেখতে এসেছি। মনোমুগ্ধকর অপরুপ প্রাকৃতিক সুন্দর্য দেখে আমি ভীষণ আনন্দিত। স্থানীয়রা জানান, আন্দারশুরা পদ্ম বিলের সৌন্দর্য্য অনেকটা নস্ট হয়েছে একশ্রেণীর ভুমিগ্রাসীদের অবৈধ পুকুর খনন ও কথিত ইজারার নামে বিলের শত শত বিঘা জমি জবরদখল করে ধান চাষ।

এবিষয়ে ভারশো ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সুমন হোসেন জানান, আন্দারশুরা পদ্মবিল নামে এলাকায় এবং এর বাহিরে পরিচিত।বিলে প্রাকৃতিকভাবে ফুটা পদ্মফুল দেখতে প্রতিদিন অনেক দর্শণার্থী ভীড় জমাচ্ছে। এই সুন্দর্যপূর্ণ স্থানটিতে দর্শণার্থীদের বসার সিট, টয়লেটসহ আরো আকর্ষণীয় করার লক্ষে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে কোন প্রকল্পের মাধ্যমে আরো আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *