ইন্দ্রজিৎ টিকাদার বটিয়াঘাটা(খুলনা)প্রতিনিধি

বটিয়াঘাটা উপজেলা ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে গাছ পড়ে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে গতকাল বুধবার সকালে শেয়ালীডাঙ্গা এলাকায় কাজীবাছা নদী উপকূলীয় বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত । উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দোয়াত কলম প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী নিতাই গাইনের পক্ষে থেকে নিজের অর্থায়নে শ্রমিক নিয়ে ভেরীবাঁধ মেরামতের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ।

এছাড়া বটিয়াঘাটা বাজার সহ বিভিন্ন জায়গায় জোয়ারেরর পানি ডুকে প্লাবিত হয়েছে বহু ঘরবাড়ি, মৎস্যঘের ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সুরখালি ইউনিয়নে গাওঘরা এলাকায় ঘরের উপর গাছ পড়ে লাল চাঁদ মোড়ল (৩৬) নামে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। পানিতে প্লাবিত রয়েছে বারোআড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ি ।

পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা পাশের একটি মসজিদে আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রায়পুর আশ্রয় প্রকল্পের ৫০টি পরিবার। বারোআড়িয়া বাজারে পাশে অবস্থিত ৩০ টি পরিবার পানি বন্দী হয়ে রয়েছে। কোদলা এলাকায় মৎস্য ঘেরের রিং বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে শত শত বিঘা মৎস্যঘের পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বটিয়াঘাটা -পাইকগাছা দারুনমল। দারুন মল্লিক সড়ক এর রায়পুর নামক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী বেড়িবাঁধ রক্ষা করার চেষ্টা করছে।

উপজেলার ভান্ডারকোট ,বালিয়াডাঙ্গা, তেঁতুলতলা, মাথাভাঙ্গা,শিয়াল ডাঙ্গা, বুজবুনিয়া,বিরাট সুরখালী, এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে এলাকায় প্লাবিত হয়। এতে ডুবে যায় অনেক মৎস্য ঘের বাড়ি ও ফসল। দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে তেতুঁলতলা এলাকার কিছু ঘরবাড়ি, মাথাভাঙ্গা আশ্রান প্রকল্পের ঘর সহ প্রায় তিনশত ঘরবাড়ি বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে ।

তেতুলতলা আশ্রায়ন প্রকল্পের রাস্তাঘাট।এছাড়া বটিয়াঘাটা বাজার এলাকায়  ক্রোকারিজ ব্যবসায়ীভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের মালিক  লুৎফুর রহমানের দোকােনর নদীর তুফানের আঘাতে পিছনের দেওয়াল ভেঙে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার মালামাল নদীতে ভেসে গেছে । এছাড়া মামুন মেশিনারিজ, লিটন ঘোষ, হাসিবুর রহমান, বাচ্চু খান, সৌতি খান,বিজয় সাহা,  অমাল দাস সব মিলে প্রায় ১০/১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ।

অন্যদিকে ওয়াবদা বাড়ি বাঁধ ভেঙ্গে বটিয়াঘাটার পাশেই অবস্থিত পাইকগাছা উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের জিরবুনিয়া, ফুলবাড়ী, জেলিখালী, বিগরদানা সৈয়দখালী,কালিনগর সহ ১০-১৫টি গ্রাম দুইদিন ধরে পানিতে প্লাবিত রয়েছে। সরকারি ভাবে এখনো ওইসব এলাকায় সরকারি কোন ত্রাণ ও সাহায্য পৌঁছায়নি। চরম মানবতার জীবন যাপন করছে উপকূলীয় অঞ্চলের এসব পরিবারগুলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *