আনোয়ার হোসেন আকাশ,
রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি:

বেলা ১১টা বেজে ৪৫ মিনিট। শীতের দিনে সূর্যের মিষ্টি রোদ পাওয়ার মুখ্য সময়। ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুল বড় মাঠে পুরোদমে রোদের মিষ্টি ছোঁয়া। বড় মাঠের শহীদ মিনারে পাশে এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী। কাছে গিয়ে দেখা যায় পরীক্ষা দিচ্ছেন তারা।

জানা যায়, ৫০ জন শিক্ষার্থী মিলে তাদের রয়েছে একটি স্টাডি গ্রুপ। অনলাইন গ্রুপে আগের দিনে দেওয়া হয় পরীক্ষার সিলেবাস আর পরের দিন নেওয়া হয় পরীক্ষা। সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয় তিনটি পরীক্ষা। পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে সবাই উপস্থিত হয় জেলা স্কুল বড় মাঠে। আর ফি হিসেবে দিতে হয় মাসিক ১০০ টাকা।

পড়াশোনার পাশাপাশি আরও অধিক প্রস্তুতির জন্য এ ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান তারা। ঘণ্টাব্যাপী পরীক্ষা শেষে একজন শিক্ষার্থী অপরজনের খাতা কেটে প্রকাশ করা হয় ফলাফল। ফলাফলে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের করা হয় পুরস্কৃত।

পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থী মারহিদা বলেন, আমাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগ বাড়ানোর জন্য আমরা মাঠে এসে পরীক্ষা দিয়ে থাকি। এতে করে আমরা আরও বেশি প্রস্তুতি নিতে পারছি। যেহেতু সামনে আমাদের চাকরি পরীক্ষা আছে, তাই এখানে আসা।

শিক্ষার্থী স্বপন বলেন, আমরা পড়াশোনা শেষ করে বেকার হয়ে বসে আছি। অনেকগুলো চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও সফল হতে পারিনি। তাই প্রস্তুতি বেশি নেওয়ার জন্য এভাবে গ্রুপ স্টাডি করে পরীক্ষা দেওয়া। এতে আমাদের প্রস্তুতি আরও সুন্দর হয়। আশা করছি আমরা চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারব।

পরীক্ষা প্রথম হওয়া শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন, আজকের পরীক্ষার বিষয় ছিল গণিত। আমি ১০০ এর মধ্যে ৯৬.২ পেয়েছি। অনেক ভালো লাগছে ব্যতিক্রমধর্মী এ উদ্যোগ থেকে অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।

এ উদ্যোগের পরিচালক রবি বলেন, ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর আমরা এটি শুরু করি। করোনাকালীন যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ কোচিং বন্ধ ছিল তখন থেকে আমি চিন্তা করি কী করা যায়। পরে কয়েকজন মিলে মাঠে বসে প্রস্তুতি পরীক্ষা নেওয়া শুরু করি। সপ্তাহে তিনদিন পরীক্ষা হয়।

পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে চলছে। আমি মনে করছি এই পরীক্ষার কারণে বন্ধুরা উপকৃত হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমাদের ৮-১০ জনের চাকরি হয়েছে। কায়েকজন বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। আমরা যতদিন পারব আমাদের এ প্রস্তুতি পরীক্ষা অব্যাহত রাখব বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *