নারায়ণগঞ্জ বন্দরে কল্যান্দী গত ১৯ শে জুন মঙ্গলবার ভোর ৪ টায় এক ভাড়াটে বাড়িতে এক সন্তানের জননী মুন্নী (২৪) নামের গলায় ফাঁশি দেওয়া ঝুলন্ত লাশের খবর ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

পরে খবর পেয়ে ঘটনা স্থানে বন্দর থানা পুলিশ হাজির হয়ে মুন্নীর ঝুলন্ত লাশ পরিবারে সমক্ষে পুলিশ নামিয়ে সুরতহাল করে দেখেন মুন্নীর সরিলে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় নি তবে মুন্নীর পরিবারে অভিযোগ ছিল এটি আত্ম হত্যা না মুন্নী কে হত্যা করা হয়েছে। বিষয় টি গুর্ত্ব দিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্নীর লাশটি বন্দর থানা পুলিশ মুন্নীর বাব কে বাদী করে একটি অপমৃত্যুর মামলা করে মামলা নং ২৩/২১ লাশটি থানায় নিয়ে যায়।

মৃত মুন্নী বন্দর থানা কলাগাছিয় ইউনিয়নের জিদরা গ্রামের মনির মিয়ার মেয়ে মুন্নীর বিয়ে হয়েছিল গত ৮ বছর আগে মুন্সিগঞ্জে তাদের সংসার জীবনে ৬ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে দুঃখের বিষয় সন্তান হবার কয়েক বছর পর থেকে শুরু হয় মুন্নীর সাংসারিক জীবনে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ যন্ত্রণা আর অশান্তি নিয়ে মুন্নী চলে আসে বাবার বাড়ি বন্দর কল্যানদী গ্রামে সেই থেকে দের বছর ধরে মুন্নী ও তার সন্তান রয়েছে বাবা মায়ের সঙ্গে।

সরজমিনে মুন্নীর বাবা মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় বন্দর থানা কল্যান্দী গ্রামে সেটেলাইট ডিস,ও ইন্টারনেট ওয়াই-ফাই ব্যবসা করে জুম্মন নামের একটি ছেলের সঙ্গে মুন্নীর পরিচয় হয় গত তিন চার মাস আগে, তখন থেকে জুম্মন প্রায় সময় মুন্নীর সাথে যোগাযোগ করতে আসতো বিষয় টি আমাদের নজরে আসে তখন মুন্নী কে জিজ্ঞেস করলাম জুম্মন তোর এখানে কেন আসে মুন্নী আমাদের কে বলেন জুম্মন ভাই আমার ছেলে ও আমার খোঁজখবর জিজ্ঞেস করে আমি যেমন আছি তেমনি বলি। তাই মেয়ে কে তেমন কিছু বলিনি মনে করছি মানুষের খোঁজ খবর মানুষ নেয়।

মুন্নীর মা, কিন্তু ২০/২৫ দিন আগে মুন্নী আমাকে যানায় জুম্মন ভাই আমাকে পছন্দ করে বিয়ে করতে চায় তাই নিয়ে মুন্নীর সাথে আমাদের পরিবারের লোকজন একটু কথা কাটাকাটি হয় এর জন্য মুন্নী গত ১০ জুন বাসা থেকে রাগ করে বেরিয়ে আসে অনেক খোঁজ করার পরে শুনি আমাদের পাশের গ্রামের কল্যান্দী নারগিস আপার নতুন বাড়িতে জুম্মন শালি পরিচয় দিয়ে ঘড় ভাড়া করে দিয়েছে ,আমরা যখন মুন্নীর ভাড়া বাড়িতে জাই মুন্নী আমাকে বলেছেন আমার ছেলে নিয়া আমি এখানে থাকবো তাই আমরা চলে আসি। আশা যাওয়ার মাঝে ১১ দিন পরে গত ২২ শে জুন মঙ্গলবার ভোরে শুনতে পাইলাম মুন্নী গলায় ফাঁশি দিছে সাথে সাথে মুন্নীর ভাড়া নেওয়া নারগিসের বাসায় গিয়ে দেখি মুন্নীর গলায় ফাঁশি দেওয়া ঝুলন্ত লাশ।

মুন্নীর বাড়ির মালিক নারগিস কে জিজ্ঞেস করলাম কি হইল, নারগিস উত্তর দিলো ভোর ৪ টায় মুন্নীর ছেলে আমাকে ঘর থেকে ডাক দিয়া বলে নানি মায় ঝুইলা আছে তখন আমি দেখি মুন্নীর ঝুলন্ত লাশ। বন্দর থানা পুলিশ এস,আই শহিদুল এসে লাশ নামিয়ে মুন্নীর বাড়িওয়ালা কে জিজ্ঞেস করলেন ঘটনা কি এর পরে মুন্নীর ৬ বছরের ছেলে কে জিজ্ঞেস করলেন কি হয়েছে ছিল তোমার আম্মুর মুন্নীর ছেলে উত্তর দিলো কাল রাতে আমার মায়ের সঙ্গে জুম্মন মামার ঝগড়া হইছিল হেগ ঝগড়ার সময় আমি ঘুমায় গেছিলাম পরে আমার ঘুমের মধ্যে একটা লাইটের আলো পড়লো আমি চায়া দেহি মায় ঝুইলা আছে হেসুম আমাগ বাড়িওয়ালা নানিরে ডাক দিছি।

এবিষয়ে বন্দর থানা অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা জানিয়েছেন মুন্নী কে জুম্মন হত্যা করতে বাদ্য করেছে বলে অভিযোগ করেন মুন্নী পরিবার তাই মুন্নীর বাবা বাদী হয়ে ২৮ শে জুন সোমবার ৩০৬ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত জুম্মন কে আসামী করে মামলা করেন মুন্নীর বাবা তাই ঐ দিন রাতেই আসামি জুম্মন কে ধরে বন্দর থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পর ২৯ শে জুন মঙ্গলবার জুম্মন কে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ জুম্মনের নামে এর আগেও একটি প্রবাসীর স্ত্রী কে ব্লাকমেইল করে লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাকে আত্ম হত্যা করতে বাদ্য করেছে বলে জানিয়েছেন জুম্মনের একটি অস্ত্র মামলায় জেল খেটেছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী
অত্র এলাকাবাসী বলেছেন এই ধরনের মানুষের কঠিন শাস্তি হওয়ার দরকার যা দেখ আর কেউ এই ধরনের কাজ করতে সাহস না পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *