আলিফ হোসেন,তানোরঃ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৩ নম্বর পাকড়ি ইউনিয়নে (ইউপি) নির্বাচনের আগাম হাওয়া বইছে। ইতমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থী তাদের অনুগত নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

তবে আওয়ামী লীগের এস, এম মাসুদ উল হক (মাসুদ) ও চেয়ারম্যান রাকিব উদ্দিন সরকার রাকিবকে ঘিরেই মুলত নির্বাচনী আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে ভোটারগণ। এদিকে এসব আলোচনায় মাসুদ-রাকিবের মধ্যে পার্থক্য স্পস্ট হয়ে উঠেছে।

যেখানে ইতিবাচকে মাসুদ নেতিবাচকে রাকিব এগিয়ে রয়েছে। আদর্শিক, তরুণ, মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ নিয়ে ইতিবাচক দিক দিয়ে মাসুদ ভোটের মাঠে এগিয়ে রয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের পুরোটা মাসুদকে সমর্থন করেছেন।

ইতঃমধ্যে পথসভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরে সাধারণ ভোটারদের মাঝে মাসুদ একটা আলাদা বা নিজস্ব অবস্থান গড়ে তুলে ভোটের মাঠে অন্যদের থেকে এগিয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে ভিজিএফ চাল চুরি, প্রকল্পের টাকা নয়ছয়, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ইত্যাদি কারণে ইউপিবাসীর মাঝে রাকিবের চরম ইমেজ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউপি আওয়ামী লীগের এক জৈষ্ঠ নেতা বলেন, রাকিব এমপির ঘাড়ে ভর করে তার বদৌলতে ইউপি চেয়ারম্যান হয়েছেন।

তিনি বলেন, কিন্ত্ত চেয়ারম্যান হবার পর পরই এমপিসহ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, নানামুখী অনিয়ম-দুর্নীতি, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ফেরত যাওয়া,
ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা ইত্যাদি নানা কারণে তিনি বির্তকিত ও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এদিকে সাধারণের ভাষ্য, এসব কারণে তিনি এলাকায় দৃশ্যমান তেমন কোনো উন্নয়ন করতে পারেন নি।

ফলে তারা তাকে উন্নয়ন বান্ধব নয় বরং প্রতিবন্ধক হিসেবেই দেখছেন। এদিকে ইউপিবাসীর কাছে এটা আর নির্বাচনী লড়াইয়ে নাই, এটা তাদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে পরিণত হয়ে উঠেছে, কারণ ইউপিবাসী আগামি দিনেও উন্নয়ন বঞ্চিত থাকবে না সরকারের উন্নয়নের মহাসড়কে উঠে আধুনিক নাগরিক সুযোগ- সুবিধা ভোগ করবে সেটা তাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ইউপির নাগরিকগণের মধ্যে এবার বোধদয় হয়েছে সরকার সমর্থক এবং স্থানীয় সাংসদের বিশস্ত
জনপ্রতিনিধি ব্যতিত এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এসব বিবেচনায় এবার ইউপিবাসী সরকার দলীয় এবং এমপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এমন বিশস্ত আদর্শিক, তরুণ, মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ সম্পন্ন প্রার্থীকে বিজয়ী করে তারা এলাকার উন্নয়নের খরা কাটাতে চাই।

ইউপিবাসীর মধ্যে এই বোধদয় সৃষ্টির ফলে ভোটের মাঠে ভিন্নমাত্রা ও পরিবর্তনের পুর্বাভাস লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ভাষ্য, দেশে এমপি নির্ভর রাজনীতিতে এমপি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি। যে কারণে এমপির বিপক্ষে অবস্থান নেয়া মানে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিপক্ষে অবস্থান নেয়া।

এমপির সঙ্গে মতবিরোধ বা সম্পর্কের অবনতি রয়েছে এমন কাউকে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই না পাকড়ি ইউপির আমজনতা। কারণ পাকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রাকিবের এমপিবিরোধী অবস্থান ও নানামুখী অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে নাগরিকগণ দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। রাস্তা- ঘাট, গ্রামীণ অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচি ইত্যাদি উন্নয়ন ও অর্জনের ক্ষেত্রে অন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এবার তারা পরিবর্তন চাই।
জানা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলার ৩ নম্বর পাকড়ি ইউনিয়নের (ইউপি) আয়তন প্রায় ২ হাজার ১৯৯ বর্গকিলোমিটার, মৌজা ৩৬টি, গ্রাম ৬৮টি, জনসংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার ৫১ জন এর মধ্যে পুরুষ ১৪ হাজার ৭৮২ ও নারী ১৫ হাজার ২৬৯ জন, ভোটার ১৬ হাজার ৫৯৮ এর মধ্যে পুরুষ ৮ হাজার ৩১ জন এবং নারী ৮ হাজার ৫৬৭ জন, মোট পরিবার ৫ হাজার ৯২৮ এবং আদিবাসী পরিবার রয়েছে ১ হাজার ৪৫০টি। এদিকে ইউপিবাসীর এই বোধদয় সৃস্টির পর পাল্টে গেছে ভোটের হিসেব-নিকেশ। সচেতন মহলের ভাষ্য, সরকারের দেয়া সুযোগ-সুবিধা লোপাট করে ফুঁলেফেঁপে উঠে এসব জনপ্রতিনিধি নিজেরা বিলাস জীবনযাপন করে জনগণকে বোঝায় স্থানীয় সাংসদরা তাদের কিছুই দেন না, ফলে তাদের আন্তরিক ইচ্ছে থাকলেও তারা জনগণের কোনো কাজ করতে পারেন না যেটা ডাহা মিথ্যা কথা অথচ ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব, সরকারী সহায়তা ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার সাহায্যেের টাকায় উন্নয়নের বিপ্লব ঘটানো সম্ভব বলে মনে করেন উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *