এস এম গোলাম রাবিব স্টাফ রিপোর্টার

সময়ে সময়ে আলোচনা-সমালোচনায় পুলিশের খারাপ দিকগুলোই বেশি মুখরোচক হয়ে ওঠে। পুলিশ যে জনগণের বন্ধু, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করার পাশাপাশি তারা যে মানবিক কাজের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই তা আমরা ভুলে যাই। দু-একজনের অপকর্মে পুরো পুলিশ বাহিনীকে সমালোচনায় বিদ্ধ করি আমরাই।

তবে পুলিশের মধ্যেও এরকম পুলিশ রয়েছেন যে কিনা প্রতিনিয়ত অসহায় মানুষের জন্য বিলিয়ে দিচ্ছেন নিজেকে, তাদের জন্য করে যাচ্ছেন অক্লান্ত পরিশ্রম। এছাড়াও সামাজিক ও নৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেও রয়েছে তার অবাধ বিচরণ।

এমনই একজন মানবিক পুলিশ (ওসি) মিজানুর রহমান। সামাজিক ও নৈতিক কর্মকাণ্ডে তার প্রশংসা ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন প্রান্তে। বর্তমানে তিনি কর্মরত আছেন নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)হিসেবে। ছোট বেলা থেকেই মিজানুর রহমান অসহায় মানুষের জন্য ভালো কিছু করার এবং সামাজিক কাজ কর্মের সঙ্গে নিজেকে জড়িত করার স্বপ্ন দেখতেন। সে সময় পারিবারিক নানান কারণে তিনি সেগুলো কিছুটা কম করতে পারেছেন। অতঃপর তিনি যখন বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করলেন তারপর থেকেই তিনি প্রতিনিয়ত মানবিক-সামাজিক সকল কাজ করে যাচ্ছেন স্বার্থহীনভাবে।

এছাড়াও দেশের কিছু জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেলে মিজানুর রহমানের মানবিক কার্যাবলীর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আমি মানুষের দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে পারি না, ছোটবেলা থেকে আমার মানুষের জন্য ভালো কাজ করার প্রবল ইচ্ছে ছিলো কিন্তু নানান কারণে আমি এসব কাজগুলো করতে তেমন পারিনি। কিন্তু এখন জীবনের বাকি সময়গুলো আমি অসহায়-অবহেলিত মানুষের তরে খরচ করতে চাই।

সামাজিক কাজের অনুভূতি কেমন জানতে চাইলে ওসি মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশের একজন সদস্য হিসেবে এসব মানবিক কাজ করতে পারায় আমি অনেক আনন্দিত উচ্ছসিত। সাধারণ মানুষ যেভাবে পুলিশের ভয়ে আতঙ্কে থাকে, আমার ক্ষেত্রে বিষয়টা একদমই ব্যতিক্রম। আমাকে দেখলে মানুষ মনে করে যে তাদের বন্ধু এসেছে, আমাদের ওসি মিজান ভাই এসেছে। তাদের জন্য কিছু করতে এসেছে। এই যে ভালো লাগা, এখান থেকেই কাজের শক্তি পাই এবং আজীবন মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই যতদিন আল্লাহ হায়াত রেখেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *