ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, বটিয়াঘাটা (খুলনা) প্রতিনিধি ঃ

জেলার বটিয়াঘাটায় আমন মৌসুমে কৃষককূল বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন করে রোপণ লক্ষ্যে ব্যস্ত সময় পার করছেন ।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে , এবছর ২১৪০হেক্টর জমি বীজতলা তৈরি করেছে এবং তা ১৭হাজার,৫ শত হেক্টর জমিতে চারা উত্তোলন পূর্বক রোপণ করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলে কৃষকরা । ইতিমধ্যে কিছু কিছু জমিতে চারা উত্তোলন করে রোপণ করা শুরু করেছে ।

উপজেলায় স্থানীয় জাতের আমন ধান থেকে তৈরি আতপ (ভাটেল) চাল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে খুলনা জেলা সহ দেশে বিদেশে ব্যাপক ক্ষ্যেতি অর্জন করেছে । বটিয়াঘাটায় আমন ধান থেকে আতপ চাল উৎপাদন হলেও তা জলমার আতপ (জলমার-ভাটেল) চাল হিসেবে পরিচিত ।

স্থানীয় বিভিন্ন যে সকল জাতের ধান থেকে আতপ চাল উৎপাদন হয,সে সকল স্থানীয় জাতের ধান গুলো হলো মোহিনী চালট, রাণী চালট,ভুটেচালট, পক্ষীরাজ, বাঁশমতি, হোগলাপাতা , চিনিকানাই,কাঁচড়া, বাঁশফুল বালাম, মরিসশাল, চাপশাইল, কুমড়ী, বজ্জরমুড়ি, হেডকুমড়ি, ঘুমসী, রাঙ্গাকচী, পাটনাই বালাম, কালামোটা ইত্যাদি ।

এ সকল স্থানীয় জাতের ধানের আতপ চালের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, ভাত রান্না করলে অনেক দূর থেকে সুগন্ধ পাওয়া যায় এবং এতো বেশি সুস্বাদু ও সুগন্ধ ছড়ানোর কারনে যে কোন প্রকার তরিতরকারি ছাড়া সম্পূর্ণ তেঁতুল ও ঝাল দিয়ে এক থাল ভাত খাওয়া যায়। এ ধানের চালের ভাতে সুন্দর পান্থ তৈরি হয় ।এছাড়া অন্যান্য ধানের তুলনায় দাম অনেক বেশি ।

যার প্রতি মন ধানের মূল্য প্রায় ১৭শত থেকে ২ হাজার টাকা । স্থানীয় বিশ্লেষকরা, স্থানীয় জাতের ধানের আতপ চালকে ঢাকার মসলিন,জম্বু- কাশ্মীরের শাল ও জলমার আতপ চালের সাথে তুলনা করেছে । ইতিমধ্যে আমন মৌসুমে কৃষককূল বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন পূর্বক রোপণ করা শুরু করেছে ।

অন্যদিকে নানা কারণে স্থানীয় জাতের ধানের উৎপাদন কমে যাওয়ায় কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল বিরি জাতের দিকে ঝুঁকে পড়ছে । ফলে স্থানীয় ওই সকল জাতের ধান বিলুপ্ত হয়ে যাবার আশংকা দেখা দিয়েছে । ইতিমধ্যে কিছু কিছু জাতের ধান বিলুপ্ত‌ও হয়ে গেছে । সম্প্রতি বে-সরকারি সংস্থা বিলুপ্ত প্রায় স্থানীয় জাতের ধান সংরক্ষণের লক্ষ্যে কাটিং এর মাধ্যমে প্রজজন ঘটিয়ে অধিক ফলনশীল স্থানীয় জাতের ধানের বীজ সৃষ্টি করে কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করছে ।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, স্থানীয় জাতের ধান উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের মতো পরিচর্যা করলে স্থানীয় জাতের ধানও অধীক উৎপাদন করে লাভবান হওয়া সম্ভব । কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পক্ষ থেকে কৃষকদের আমরা সব সময় সেই প্রযুক্তি ও পরামর্শ সহায়তা প্রদান করে আসছি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *