লেখক সাংবাদিক ইউসুফ আলী।
প্রবাদ বাক্যে বলা হয়েছে, অর্থ হারালে কিছু হারায় না,স্বাস্থ্য হারালে কিছু, কিন্তু যদি চরিত্র হারায় তবে অবশিষ্ট থাকেনা আর কিছু।

আবার বলা হয় যদি কারো একটি কান কোন অপরাধে কেটে দেয় সে রাস্তার পাশ দিয়ে হাটে, যদি দুটি কানই কেটে দেয় সে রাস্তার মাঝে দিয়ে হাঁটে। আমরা বর্তমানে এমন এক যুগ সন্ধিক্ষণে এসে উপনিত হয়েছি আমাদের কি আছে আর কি হারাচ্ছি এটা বিচার করার সময় নাই।

সবাই রাস্তার মধ্যে দিয়ে হাঁটার চেষ্টা চালাচ্ছে, বুজার উপায় নেই কার কান আছে আর কার কান নেই। চরিত্র হারাবার ভয় খুব কম লোকেই করে বরং অর্থ হারাতে না হয় তার জন্য বিভোর থাকে। বরং চরিত্রের বিনিময়ে অর্থ উপার্জনের পূর্বে ছিল একটি বিশেষ গন্ডিবদ্ধ কিন্তু এখন তার বিস্তার ঘটেছে সর্বত্র, বাসা বাড়ি থেকে শুরু করে অফিস, আদালত সবখানে।

পত্রিকার পাতা আমাদের ছেলে মেয়েরাও কম বেশি পড়ে তারাও এই ম্যাসেজটি পেয়েই বড় হচ্ছে। অর্থের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি সমাজের শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত শ্রেনী শুরু করে দিয়েছে। যাদের অভাব বলতে কিছু নাই বললেই চলে। কিন্তু যাদের নিস্পেশনের দ্বারা এই অর্থ ভৈববের পাহাড় গড়ে, তারা আজও অল্পে তুষ্ট, তাদের চাহিদা সব সব সময়েই সিমাবদ্ধ।

লোলুপ দৃষ্টিধারী শ্রেণীর অনুসরেন মাধ্যম মানের সামাজিক মানুষগুলো তাদের সাথে পাল্লা দেয়। তাতে পেরে উঠে না কিন্তু মূল্যবান সম্পদ চরিত্রটাই শুধু হারায়। চরিত্র হারাবার প্রতিযোগিতায় সকলেই শুধু দৌড়াচ্ছে আর দৌড়াচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে কোথাও কোন শান্তি, স্বস্তি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।যারা দেশের বাহিরে অন্য দেশে সভ্য সমাজে পৌঁছে গেছে, দেখা যাচ্ছে তারা আর দেশে ফিরছে না কারন দেশের কোন সংবাদই তাদের কাছে স্বস্তির কারন হয়ে উঠেনা। পৃথিবীর সব দেশেই মানুষের বস বাসের জন্য কিছু ভালো দিক থাকে, আমাদের দেশেও কম নেই একেবারে।

আমরা সে সকল প্রাকৃতিক সম্পদের বিনিময়ে ক্রমশ এগুচ্ছি বটে কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য যে জিনিসটা প্রথম প্রয়োজন স্বস্তি সেটা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। আর শূন্যের কোঠায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের শিশুরা দায়ী নয়। আমাদের যুবক সমাজও নয়, আমাদের কৃষক, কামার, কুমার, খেটে খাওয়া মানুষ গুলো মোটেই দায়ী নয়। আমরা যারা শিক্ষায় দীক্ষায় পান্ডিত্যে বড় হয়েছি তাদের মধ্যেই যত সমস্যা।

বঙ্গবন্ধু তার এক ভাষনে বলেছিলেন কার টাকায় ডাক্তার সাব, কার টাকায় ইনঞ্জিনিয়ার সাব, কার টাকায় সব সাব।আপনাকে লেখা পড়া শিখায় ঐ গরিব কৃষক ওদের সম্মান করতে শিখুন। ওদের সম্মান করে কথা বলুন। যতদিন এই সম্মানবোধ আমাদের মধ্যে জাগ্রত না হবে ততদিন এদেশে হয়তো অর্থনৈতিক কিছু প্রাচুর্যের মুখ দেখবে কিন্তু শান্তি আসবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *