আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয় বাংলা নাগরিক কমিটি মনোনীত মেয়র প্রার্থী কামরুল ইসলাম বাবু তাঁর আদর্শিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেই তুলে ধরেন।
বাবু যা লিখেছেন তা হুবুহু তুলে ধরা হল।

খুব স্পষ্ট ভাষায় বলছি, নারায়ণগঞ্জ শহরের মাটিতে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী চেতনার কোন অপশক্তিকে ছাড় দিতে পারব না। তাঁদের নৈতিক অধিকার নেই এই শহরে রাজনীতি করার। আর যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক বলে রাতের আঁধারে তাঁদেরকে কাউন্সিলর বানায়, সেই সকল ব্যক্তিদের মুখোশও উন্মোচিত করা হবে।

আমার কাজ রাজনৈতিক কর্মীদের মত করে নয়। তবে, এই শহরের নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের জন্য আমি কি কি করতে চাইছি তা নিয়ে বিস্তর কাজ করছি। গবেষণারত আছি।

ধন্যবাদ জানাব ‘জয় বাংলা নাগরিক কমিটি’ কে। যারা দিনরাত পরিশ্রম করে আমাকে শহর রক্ষার জন্য নানা ধরণের উদ্যোগ নিতে সুপারিশ করে যাচ্ছে। তাঁরা বলতে চাইছে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভেসে যেয়ে শহর পরিকল্পনার প্রত্যেকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আমি উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট ছক কষে ফেলেছি। যা নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য নতুন চিন্তার খোরাক হবে। অতি অবশ্যই আমি নাসিক কে আয়ের মধ্যেও রাখতে চাই। সরকারের হাতে বার্ষিক মুনাফা তুলে দিতে চাই। তবে সবার আগে নাগরিক সেবা। কি কি সেবা প্রদান করতে পারবো তা নিয়ে চলছে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির দুইটি দলিল লিখনের কাজ। একটি কেবল আমরা( অক্টোবর) উন্মোচন করব। কিন্তু, সেরা পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরব না। নির্বাচন তারিখের শেষ সপ্তাহে জানাব, কেন একজন কামরুল ইসলাম বাবুকে আপনারা ভোট দিবেন? ওই কেন-র উত্তরে আমি চূড়ান্ত ইশতেহার নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য প্রদান করব।

এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি, আপনারা সাংগঠনিক কাজে মন দিন। জামায়াত- বিএনপি প্রতিরোধে সক্রিয় ভুমিকা পালন করুন। আমার জীবদ্দশায় কখনই ছাত্রলীগ, যুবলীগ কিংবা আওয়ামী লীগ এর পদ পদবী নিয়ে কাজ করবার সুযোগ হয় নাই। আমি মনেই করি না, এত বড় দলের সাথে কাজ করতে হলে তেমন যোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছি। তবে, নিজ দল থেকে যদি একদিন তাঁরা মনে করে, বাবুকেই দরকার, আমি মনে করি নারায়ণগঞ্জ ও দেশকে দেয়ার সামাণ্য সামর্থ্য আছে।

আমি কথিত পদের জন্য লালায়িত নই। আপনি সাধলেও তা নিতে আমি অপারগ। জয় বাংলা নাগরিক কমিটির আত্মপ্রকাশ দেরিতে হলেও, তাঁরা আমাকে গেল কয়েক বছর আগ হতেই বলে আসছিল, আপনি নির্বাচনে দাঁড়ান। প্রথমদিকে রাজী না হলেও, ২০২১ সালে রাজী হয়েছি। জয় বাংলা সকলের শ্লোগান। দেশের বিচার বিভাগও রায় দিয়েছে এই মর্মে, এটিই জাতীয় শ্লোগান। কাজেই কেহ নিজের শ্লোগান বলে এমন কৃষ্টিকে দাবী করে নিজেদের অশিক্ষিত প্রমাণ করতে যাবেন না।

আমি আশা করি, আমার কাজের মধ্য দিয়েই একদিন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় হতে বলা হবে, সু স্বাগত ‘বাবু’ !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *